Friday, September 19, 2025

পর্ব ৪ : Where Ocean and Mountains Meet

 ১৫ সেপ্টেম্বর,২০২৫

সকালবেলা আমরা নিজেরা ডিম ভাজি করে ব্রেড দিয়ে খেয়ে নিলাম।পরে একসাথে হেটে রওনা হলাম কনফারেন্স জব ফেয়ারে। রাস্তায় আসিফ ক্রমাগত "ম্যাকডোনাল্ডো ম্যাকডোনাল্ডো" করতে লাগলো।কিছু দূর এগিয়ে আমরা সবাই ম্যাকডোনাল্ডে ফিশ বার্গার আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেলাম। এই প্রথম মনে হয় ১০ ডলারের উপরে একসাথে খরচ করা কে নরমালাইজ করছিলাম আমরা! 


কনফারেন্স বল রুমের উপররের ভিউ


অনেক খুঁজেও ক্যাব পেলাম না


জব ফেয়ার ভেন্যু প্রায় আরও ৪ কিলো দূরে। কোনো উবার কল করতে পারছি না বিধায় আবারও হেটে রওনা হলাম। রাস্তায় তখন ৩° এর মতোন তাপমাত্রা।এই হাড়কাপুনি ঠান্ডায় রাস্তা ক্রস করতে লাগলাম।বাংলাদেশ আর ইউএসএ এর সবচেয়ে বেশি পার্থক্য যে জায়গায় প্রথমেই চোখে পড়ে সেটা হলো ট্রাফিক রেগুলেশনে। এত স্ট্রিক্ট আর অর্গানাইজড ট্রাফিক রুল যে এক্সিস্ট করতে পারে সেটাই কল্পনার বাইরে ছিলো।সমস্ত রাস্তায় একজন মানুষ না থাকলেও গাড়ি থেমে যায়। এটা ভালো না লেগে উপায় নেই! 

জব ফেয়ার এটেন্ড করা শেষে আমরা আর ইন্ডিয়ার ২ জন মিলে একসাথে রওনা দিলাম বেলুগা পয়েন্টের উদ্দেশ্যে। ক্যাব পেতে অনেক বেগ পেতে হলো।শেষমেষ কিছু করতে না পেরে লাবিবা নাহিয়ানের হোটেল অবধি হেটে হেটে গেলাম।ওখানে হোটেল ওনার কল করলে নিগোশিয়েট করে ৪+৬ জনের জন্য ২ টা ক্যাব ফিক্স  করলাম।দুইটা ক্যাব নিয়ে আমরা চললাম বেলুগা পয়েন্টের উদ্দেশ্যে।

                            বেলুগা পয়েন্টে যাওয়ার পথে 


                                  বেলুগা পয়েন্ট স্ন্যাপ 

বেলুগা পয়েন্ট এংকোরেজ ডাউনটাউন থেকে ১০ মাইলের মতোন দূরে। ইউএসএ এর রাস্তা সব সময়ই ফাকা থাকে। তাই টাইমলি সব জায়গায় পৌঁছে যাওয়া যায়। ১৫-২০ মিনিট শেষে আমরা বেলুগা পয়েন্টে পৌছলাম। উপরে থেকে দেখে তেমন সুন্দর মনে হচ্ছিল না। যদিও দূরের গ্লেসিয়ার আর সমুদ্রের কন্টাক্ট পয়েন্টের দৃশ্য মনে গেথে থাকার মতোন। তবে আসল সৌন্দর্য পাওয়া গেল পিলার ক্রস করে নিচে যাওয়ার পর। একদম ছবির থেকেও সুন্দর সব কিছু। খন্ড খন্ড পাথর,পাশে নীল সমুদ্র আর দূরে গ্লেসিয়ার। নেপালে শুধু হিমালয় দেখেছিলাম। নেপাল ল্যান্ডলকড কান্ট্রি,তাই সমুদ্রের দিশাও পাওয়া যায় না।এখানে একই সাথে দ্বিমুখী সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ হলো! আর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পাশ দিয়ে যাওয়া রেললাইন। এত কিছুর মধ্যে মন চাইছিলো আজীবনই থেকে যাই এখানে।কিন্তু ক্যাব আমাদের জন্য ওয়েট করছিল উপরে। তাই ৩০ মিনিটের বেশি থাকতে পারলাম না। ব্যাক করলাম উপরের দিকে। 

                           পাহাড়,সমুদ্র এবং গ্লেসিয়ার

                                          

                                                    

                                    আমি ও আমরা


উপরে উঠে এক আমেরিকান ভদ্রমহিলা আমাদের জ্ঞান দিতে লাগলো।সাথে একটা কুকুর কে দড়িতে বেধে রেখেছে।উনি নাকি আগে লেজিস্লেটিভ অফিসার টাইপ কিছু ছিল।AI Revolution নিয়ে উনার মুগ্ধতার কথা বললেন আমাদের।কিন্তু কিছু সময় পর উনার কথা গুলো খাপছাড়া মনে হতে লাগলো। এটা কি উনার সমস্যা নাকি আমাদের সমস্যা বুঝতে না বুঝতে ক্যাবে উঠে পড়লাম।

আমি,রিফতি আর ইন্ডিয়ান গুলা একটা ক্যাবে আর বাকি ৬ জন অন্য ক্যাবে উঠলো।আমাদের ক্যাবের ড্রাইভার কথায় কথায় Whittier এর কথা বললো। ট্যুরিস্ট রা নাকি জেনারেলি এংকোরেজ আসলে ওখানে ঘুরতে যায়। কথা বলতে বলতে আমাদের বাসার সামনে এসে গেলাম। সংগত কারণেই কিছুক্ষণ মন খারাপ ছিল।বাসায় কোনো খাবার দাবারও ছিলো না।আমি আর রিফতি বাসায় ঘুমিয়ে পড়লাম কিছু সময়ের মাঝে। বাকি ৬ জন আলাস্কায় এংকরেজে মসজিদ খুজে বের করে ওখানে গেলো।গিয়ে এক বাংলাদেশি দিদার ভাইয়ের সাথে দেখা হলো।উনি নাকি আমাদের সবাইকে উনার বাসায় দাওয়াত দিতে চাইলেন। কিন্তু আমরা সংখ্যায় বেশি দেখে উনার কষ্ট হবে দেখে ওরা আপত্তি জানিয়েছিল। তারপর উনারা আমাদের বাসায় পরদিন খাবার দিয়ে যেতে চাইলেন।রাতের দিকে বাকি সবাই ওয়ালমার্টে কেনাকাটা শেষে ব্যাক করলো।আমি আর রাত্রে উঠলাম না। পুরো মরার মতোন ঘুমিয়ে রইলাম! 

No comments:

Post a Comment

পর্ব ৬: গন্তব্য বাংলাদেশ

আলাস্কা থেকে ৪.৫ ঘন্টার ফ্লাইট শেষে আবারও লস এঞ্জেলেস এ ট্রাঞ্জিট। ট্রানজিট এবার ৫ ঘন্টা। হলিউডে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো।কিন্তু বাকি সবাই রাজি না ...