Friday, September 19, 2025

পর্ব ৬: গন্তব্য বাংলাদেশ

আলাস্কা থেকে ৪.৫ ঘন্টার ফ্লাইট শেষে আবারও লস এঞ্জেলেস এ ট্রাঞ্জিট। ট্রানজিট এবার ৫ ঘন্টা। হলিউডে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো।কিন্তু বাকি সবাই রাজি না হওয়ায় শেষ অবধি ডগউইলার বীচে গেলাম সবাই।এটা সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা। কোনো রকমের কোনো "achievements" ছাড়াই আমরা আবার LAX এয়ারপোর্টে ব্যাক করলাম। উল্লেখ্য,লস এঞ্জেলেস এ আমরা সেই আগের আরমেনিয়ান ড্রাইভারের হোয়টস অ্যাপ নম্বর রেখে দিয়েছিলাম। উনার সাথেই কন্টাক্ট করে আবার আমরা সেইম ক্যাবেই গিয়েছি। স্যান্টা মনিকা দেখার ইচ্ছা ছিল। কিছুই দেখা হলো না ফিরতি ট্রাঞ্জিটে।

                  লস এঞ্জেলেসে বিমানে  ফেরার পথে সূর্যোদয়

তারপরে একই ভাবে ক্যথে প্যাসিফিকে প্রথমে হংকং আর তারপরে হংকং থেকে বাংলাদেশের ফ্লাইটে ঢাকা পৌছালাম। মাঝের ট্রাঞ্জিটে নতুন তেমন কিছু নেই।আমি হংকং এয়ারপোর্টে বার্গার কিং থেকে ৯ ইউ এস ডি দিয়ে ফিশ বার্গার আর অন্য আরেকটা দোকান থেকে Knot কিনে খেলাম ৯ ইউ এস ডি দিয়ে। শেষ মুহূর্তে বড়লোক হয়ে গেলাম আরকি! 

                                            

                                                        

           ডগহুইলার বীচ, কোনো কিছুই যেখানে ভালো লাগে নাই

শেষমেষ বাংলাদেশে অসম্ভব বাজে ইমিগ্রেশন প্রসেস শেষে এয়ারপোর্টে ২ ঘন্টা আটকে থেকে বের হলাম রাত ২.৩০ এর দিকে৷ উবার কল করে ঠিক বাসার সামনে নেমে গেলাম। সবশেষে সমাপ্তি ঘটলো স্মরণীয় এই দিনগুলোর পর্যায়ক্রমিক পর্বের।

আগেরবার প্রতিবেশী দেশে গেলেও পুরা অচেনা জায়গায় আর পুরোপুরি ভিন্ন সংস্কৃতির দেশে যাওয়া এটাই প্রথম।৩ মাসের মাথায় দুটো ফরেইন ট্যুর দিবো বছরের শুরুতেও ভাবতে পারি নি।হয়তো সামনে অনেক কিছুই হবে, বা হবে না। এবারের এই কয়েকদিনের ট্যুর আমার জন্য একটা বিশাল গ্রোথ। অনেকখানি রিয়েলিটি চেক,আর আরও অনেএএক খানি রেস্পন্সিবিলিটি। সব কিছু মিলিয়ে নিজের অন্য এক সত্তা আবিষ্কার করেছি সেখানে। মার্কিন মুলুকের এই প্রথম যাত্রা সত্যিকার অর্থেই জীবনে চলার পথের এক বিশাল মাইলফলক। এতটুকু বোধ প্রবল ভাবে অনুভূত হয়েছে যে,যত সমস্যাই আসুক, এটার সমাধান ও আমার হাতেই আছে। আর জীবনও চলে যাবে জীবনের নিয়মে!

পর্ব ৫: Random Plan is Blessing

 ১৬ সেপ্টেম্বর:

আজকে রাতেই আমাদের ফিরতি ফ্লাইট। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্ল্যান করতে লাগলাম কেমনে কী করা যায়।আমি আর রিফতি সকালে ওয়ালমার্টে শেষবারের মতোন গেলাম দেশে চকলেট নিয়ে ফিরতে। প্রায় ৩০ ইউএসডির মতোন চকলেট নিলাম। পরে কয়েকবার ইলেক্ট্রনিক জিনিস পত্র ঘুরে ফিরে দেখলাম কী কেনা যায়।কিছু না পেয়ে শুধু চকলেট নিয়েই ফিরলাম বাসায়। এবার ক্যাব কল করে দিয়েছিলো ওয়ালমার্টের মালিক। ক্যাব ড্রাইভার খুবই রগচটে আর বিরক্তিকর ছিলো।



পার্কিং স্পট, যেখানে আংকেল আমাদের ট্রিট দিয়েছেন

এরপরে বাসায় ব্যাক করলে আসিফ রা প্ল্যান করেছে আলাস্কা জ্যু তে যাবে। এজন্য পরে কীভাবে ক্যাব ঠিক ঠাক করবে এটা ভাবতে ভাবতে দিদার ভাইকে কেউ একজন ফোন দিল। দিদার ভাই আমাদের জন্য আকজন বাঙালি ক্যাব ড্রাইভার ঠিক করে দিলেন।এটা যে কী লেভেল এর ব্লেসিং ছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মতোন না। রানটাইমে আমাদের প্ল্যান হুট করে Whittier এ চেঞ্জ হলো। ক্যাব এ মানুষ আটবে মাত্র ৬ জন। কীভাবে নাহিয়ান লাবিবাকে জানাবে এটা ভাবতে ভাবতে নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলাম আমরা আর ইইই এর তিনজন ভয় পেতে লাগলো কীভাবে এই ট্যুরের কথা ওদের দুইজনকে জানাবে! 

ড্রাইভার আংকেল আমাদের কে অনেক ভাবে আপ্যায়ন করলেন। একটা জায়গায় থামিয়ে আমাদের জন্য কফি,চিপস, খেজুর এর ব্যবস্থা করলেন। মেহেরপুরের মানুষ উনি। প্রায় ২৮ বছর হলো এংকোরেজে এসেছেন। রাস্তায় আমাদের অনেক কিছু দেখাতে দেখাতে যেতে লাগলেন।উনার ফ্যামিলির কথা বলতে লাগলেন। বুঝতে পাএলাম দূর পরবাসে অকস্মাৎ বাঙালির দেখা পেলে আসলে কত খুশি আর স্বত:স্ফূর্ত হয়ে উঠে সবাই।

হুইটিয়ারে যাওয়ার পথের রাস্তার ভিউ পুরা নৈসর্গিক। সাগর আর পাহাড়ের মিলনমেলা।উপরে কালো মেঘ।লং ড্রাইভে কিছুক্ষণ পরে রংধনু দেখা গেলো।গাড়ি চলার সময় চারপাশ থেকে চোখ সরানো যাচ্ছিলো না। সময়ের সাথে আমরা হুইটিয়ার টানেলের দিকে পৌছলাম। এই টানেল টা বেসিকালি রেল পথের জন্য বানানো।হুইটিয়ারে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জিনিস পাতি ক্যারি করা হয়। একটা স্পেসিফিক টাইমের জন্য সেটা গাড়ির জন্য উন্মুক্ত করা হিয়।টানেলের দৈর্ঘ্য ও বেশ বড়।টানেল শেষে হুইটিয়ার এন্ড পয়েন্টে আসলাম। শুরুতে দেখে একেবারেই সাদামাটা মনে হচ্ছিল।কিন্তু একটু সামনের পয়েন্টে পৌছাতেই আসল সৌন্দর্য ধরা দিল। নিচে অনেক গুলো ছোটখাতো বোট সারি বেধে আছে। আর কয়েকটা পোর্ট স্টেশন। চারদিকে নীলাভ আবহাওয়া। একটানা বৃষ্টি পড়ছিলো।বৃষ্টির মাঝে খুব দ্রুত নেমে আমরা অনেক গুলা ছবি তুললাম আর গাড়িতে উঠে বসলাম।

                          হুইটিয়ারে যাওয়ার লং ড্রাইভ লেন

                                              

                                হুইটিয়ার এন্ড পয়েন্ট

আংকেলকে বললাম আমরা গ্লেসিয়ার দেখতে চাই।হুইটিয়ার এন্ড পয়েন্টে তেমন কাছাকাছি গ্লেসিয়ার পাওয়া যায় না। এর জন্য পোর্টেজ গ্লেসিয়ার পয়েন্টে যাওয়া লাগবে।তাই আমরা ফিরতি পথে রওনা দিলাম।ওখানে পথিমধ্যে পোর্টেজ গ্লেসিয়ার পড়বে। পোর্টেজ গ্লেসিয়ারে পৌছানো শেষে আমাদের আংকেল একটা পোলার বেয়ার স্প্রে হাতে ধরিয়ে দিল,আর বললো সামনে থেকে কাছাকাছি গ্লেসিয়ার দেখে আসতে। যাওয়ার রাস্তা টা একদমই নীরব। আশপাশে ভাল্লুক আক্রমণের সম্ভাবনা আছে।এই ভয়ে আসিফের কলিজা একেবারেই শুকিয়ে গেলো।ও আর সামনে এগোতেই চাচ্ছিলো না। পোলার বেয়ারের স্প্রে আছে এটা দেখার পরেও শেষমেষ অবধি যেতে পারলাম না পোলাপানের জন্য।  শেষে শাহরিয়ার মুখ দিয়ে একটা ভাল্লুকের মতোন শব্দ করা শেষে যে আসিফ সুদীপ্ত দৌড় দিয়ে সামনে পালাচ্ছিল এই দৃশ্য চিন্তা করলে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার উপক্রম হবে সবার।

                                                             

                                                            

                         পোর্টেজ গ্লেসিয়ারে যাওয়ার পথে 


যাই হোক, পোর্টেজ গ্লেসিয়ারের দূর থেকে আমরা কিছু গ্লেসিয়ার দেখতে পেয়েছিলাম।ওখানে ব্লু আইস এর ও দেখা পাই। ব্লু আইস মূলত যেসব বরফ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গলে যায় না সেগুলাকে বুঝায়।উত্তর মেরুর কাছাকাছি এসে এগুলো দেখে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিলো।

পোর্টেজ গ্লেসিয়ার শেষে ড্রাইভার আংকেল একটা স্কি করার রিসোর্টে নিয়ে গেলেন। ওখানে এন্ট্রি ফ্রি পার পার্সোন ৪৫ ইউ এস ডি,যেটা অনেক বেশি মনে হয়েছে। আর এই সামার টাইমে স্কি করার সুযোগ নেই,শুধু ক্যাবল কার এ উঠা যাইতো। তো এটা বাজেটে ম্যাচ না করায় আমরা চললাম আলাস্কা জু এর দিকে।

                                                           

                                             

                   পোর্টেজ গ্লেসিয়ার থেকে পালানোর আগে

 আমরা কতক চিড়িয়া গেলাম চিড়িয়াখানায়।জ্যু তে এন্ট্রু ফি ২৫ ইউএসডি। জ্যু তে হরেক রকমের বিচিত্র প্রাণি। নর্থ পোলের দিকে মোটামুটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল পোলার বেয়ার। পোর্টেজ গ্লেসিয়ারের দিকে পোলার বেয়ার দেখার ভয় উশুল করলাম।জ্যু তে এক বাচ্চা পোলার বেয়ার একটানাই একটা ড্রামের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে আনা নেওয়া করতে লাগলো৷ আর এই ভয়ানক ঠান্ডা পানির মধ্যে সাঁতার কাটছিলো।দেখতে কিউট কিন্তু বিশালদেহী।একবার মানুষকে পেলে যে এক চেষ্টায়ই মেরে ফেলতে পারবে শরীর দেখেই বুঝতে পারলাম।  আগে পোর্টেজ গ্লেসিয়ারে নাকি ২-৩ জন ট্যুরিস্ট এর খালি হাড়গোড় পাওয়া গেছে শুনলাম ড্রাইভার আংকেলের কাছে।তো অন্য প্রাণিগুলোকে এক পলক দেখেই দ্রুত গাড়িতে উঠে বসলাম।রওনা দিলাম বাসার উদ্দেশ্যে।

                                    স্কি রিসোর্ট এর সামনে 

                      শেষমেষ আলাস্কা জ্যু তে পোলার বেয়ার

                               বেবি পোলার বেয়ার

                            সব চিড়িয়া যখন চিড়িয়াখানায়


বাসায় বিকালের দিকে দিদার ভাই আসবে। আমরা দ্রুত পুরো বাসা গুছিয়ে রাখলাম।দিদার ভাই আমাদের সবার জন্য খাবারের বিশাল আয়োজন নিয়ে আসলেন। তেহারি, লবস্টার কারি,বিফ কারি আরও কী কী ছিল মনেও পড়ছে না। মোটামুটি সবাই এতদিন পরে বাঙালি খাবারের স্বাদ পেয়ে পুরোটা মুহূর্তের মাঝেই সাবাড় করে ফেললো।মোটামুটি ৫ দিন পরে বাঙালি খাবার পেলাম আমরা!

                                  ALL IN ONE

           যে ছয়জনের অত্যাচার পিছনের বাড়ি টি সহ্য করেছে


লাবিবা আর নাহিয়ান In the meantime আমরা যখন বাইরে ছিলাম তখন আমাদের বাসায় ওদের স্যুটকেস রেখে Anchorage University তে মাসুম ভাইয়া আর ভাবীর সাথে উনাদের গাড়িতে করে ঘুরতে গিয়েছিল।মাসুম ভাইয়া বুয়েট ১৬ ব্যাচ, উনি আমাদের খোজ পেয়েছে গতকালই যে আমরা এখানে আছি! ওদেরকে উনারা আবার আমাদের বাসায় নামিয়ে দিলো।আমরা সবাই নিচে নেমে ভাইয়ার সাথে দেখা করলাম।  মাসুম ভাইয়া আমাদের সবার জন্য বিশায়াল পিৎজা নিয়ে আসে।আমরা একটু আগেই অনেক টুকু খাবার খেয়ে ফেলায় পিৎজা পুরোটা খেতে পারলাম না।লাবিবা নাহিয়ান ও দিদার ভাইয়ার খাবার খেল বাসায় এসে।

এবার ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে আমরা রওনা হওয়ার পালা। আচমকাই বাসাটার জন্য খারাপ লাগছিলো।মোটামুটি ৪ দিন নিজেরা একটা ছোটখাটো সংসার তৈরি করে ফেলেছিলাম।আমার মতোন মানুষ যে কি না কিচেনের ধারেকাছেও যায়নি কখনও সে কি না প্রতিদিন ডিম ভেজে নিজের জন্য খাবার বানিয়েছে! ৬ জন সবাই একটা মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ চলছিলাম। বাসার কাউচে ঘুমানোর জন্য আশিক, শাহরিয়ার, রিফতির প্রতিযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতোন। যাই হোক,সব কিছুরই একটা এন্ডিং থাকে। শেষমেষ দিদার ভাই আর আরেকজন বাঙালি আমাদের আলাস্কা এয়ারপোর্টে উনাদের গাড়ি দিয়ে পৌছে দিলো। উনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা বলে শেষ করা যাবে না।

সিক্যুরিটি চেকিং আর বোর্ডিং শেষে এলাস্কা বোয়িং এ আমরা ফিরতি পথে যাত্রা শুরু করলাম বাংলাদেশের পথে! 

পর্ব ৪ : Where Ocean and Mountains Meet

 ১৫ সেপ্টেম্বর,২০২৫

সকালবেলা আমরা নিজেরা ডিম ভাজি করে ব্রেড দিয়ে খেয়ে নিলাম।পরে একসাথে হেটে রওনা হলাম কনফারেন্স জব ফেয়ারে। রাস্তায় আসিফ ক্রমাগত "ম্যাকডোনাল্ডো ম্যাকডোনাল্ডো" করতে লাগলো।কিছু দূর এগিয়ে আমরা সবাই ম্যাকডোনাল্ডে ফিশ বার্গার আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেলাম। এই প্রথম মনে হয় ১০ ডলারের উপরে একসাথে খরচ করা কে নরমালাইজ করছিলাম আমরা! 


কনফারেন্স বল রুমের উপররের ভিউ


অনেক খুঁজেও ক্যাব পেলাম না


জব ফেয়ার ভেন্যু প্রায় আরও ৪ কিলো দূরে। কোনো উবার কল করতে পারছি না বিধায় আবারও হেটে রওনা হলাম। রাস্তায় তখন ৩° এর মতোন তাপমাত্রা।এই হাড়কাপুনি ঠান্ডায় রাস্তা ক্রস করতে লাগলাম।বাংলাদেশ আর ইউএসএ এর সবচেয়ে বেশি পার্থক্য যে জায়গায় প্রথমেই চোখে পড়ে সেটা হলো ট্রাফিক রেগুলেশনে। এত স্ট্রিক্ট আর অর্গানাইজড ট্রাফিক রুল যে এক্সিস্ট করতে পারে সেটাই কল্পনার বাইরে ছিলো।সমস্ত রাস্তায় একজন মানুষ না থাকলেও গাড়ি থেমে যায়। এটা ভালো না লেগে উপায় নেই! 

জব ফেয়ার এটেন্ড করা শেষে আমরা আর ইন্ডিয়ার ২ জন মিলে একসাথে রওনা দিলাম বেলুগা পয়েন্টের উদ্দেশ্যে। ক্যাব পেতে অনেক বেগ পেতে হলো।শেষমেষ কিছু করতে না পেরে লাবিবা নাহিয়ানের হোটেল অবধি হেটে হেটে গেলাম।ওখানে হোটেল ওনার কল করলে নিগোশিয়েট করে ৪+৬ জনের জন্য ২ টা ক্যাব ফিক্স  করলাম।দুইটা ক্যাব নিয়ে আমরা চললাম বেলুগা পয়েন্টের উদ্দেশ্যে।

                            বেলুগা পয়েন্টে যাওয়ার পথে 


                                  বেলুগা পয়েন্ট স্ন্যাপ 

বেলুগা পয়েন্ট এংকোরেজ ডাউনটাউন থেকে ১০ মাইলের মতোন দূরে। ইউএসএ এর রাস্তা সব সময়ই ফাকা থাকে। তাই টাইমলি সব জায়গায় পৌঁছে যাওয়া যায়। ১৫-২০ মিনিট শেষে আমরা বেলুগা পয়েন্টে পৌছলাম। উপরে থেকে দেখে তেমন সুন্দর মনে হচ্ছিল না। যদিও দূরের গ্লেসিয়ার আর সমুদ্রের কন্টাক্ট পয়েন্টের দৃশ্য মনে গেথে থাকার মতোন। তবে আসল সৌন্দর্য পাওয়া গেল পিলার ক্রস করে নিচে যাওয়ার পর। একদম ছবির থেকেও সুন্দর সব কিছু। খন্ড খন্ড পাথর,পাশে নীল সমুদ্র আর দূরে গ্লেসিয়ার। নেপালে শুধু হিমালয় দেখেছিলাম। নেপাল ল্যান্ডলকড কান্ট্রি,তাই সমুদ্রের দিশাও পাওয়া যায় না।এখানে একই সাথে দ্বিমুখী সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ হলো! আর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পাশ দিয়ে যাওয়া রেললাইন। এত কিছুর মধ্যে মন চাইছিলো আজীবনই থেকে যাই এখানে।কিন্তু ক্যাব আমাদের জন্য ওয়েট করছিল উপরে। তাই ৩০ মিনিটের বেশি থাকতে পারলাম না। ব্যাক করলাম উপরের দিকে। 

                           পাহাড়,সমুদ্র এবং গ্লেসিয়ার

                                          

                                                    

                                    আমি ও আমরা


উপরে উঠে এক আমেরিকান ভদ্রমহিলা আমাদের জ্ঞান দিতে লাগলো।সাথে একটা কুকুর কে দড়িতে বেধে রেখেছে।উনি নাকি আগে লেজিস্লেটিভ অফিসার টাইপ কিছু ছিল।AI Revolution নিয়ে উনার মুগ্ধতার কথা বললেন আমাদের।কিন্তু কিছু সময় পর উনার কথা গুলো খাপছাড়া মনে হতে লাগলো। এটা কি উনার সমস্যা নাকি আমাদের সমস্যা বুঝতে না বুঝতে ক্যাবে উঠে পড়লাম।

আমি,রিফতি আর ইন্ডিয়ান গুলা একটা ক্যাবে আর বাকি ৬ জন অন্য ক্যাবে উঠলো।আমাদের ক্যাবের ড্রাইভার কথায় কথায় Whittier এর কথা বললো। ট্যুরিস্ট রা নাকি জেনারেলি এংকোরেজ আসলে ওখানে ঘুরতে যায়। কথা বলতে বলতে আমাদের বাসার সামনে এসে গেলাম। সংগত কারণেই কিছুক্ষণ মন খারাপ ছিল।বাসায় কোনো খাবার দাবারও ছিলো না।আমি আর রিফতি বাসায় ঘুমিয়ে পড়লাম কিছু সময়ের মাঝে। বাকি ৬ জন আলাস্কায় এংকরেজে মসজিদ খুজে বের করে ওখানে গেলো।গিয়ে এক বাংলাদেশি দিদার ভাইয়ের সাথে দেখা হলো।উনি নাকি আমাদের সবাইকে উনার বাসায় দাওয়াত দিতে চাইলেন। কিন্তু আমরা সংখ্যায় বেশি দেখে উনার কষ্ট হবে দেখে ওরা আপত্তি জানিয়েছিল। তারপর উনারা আমাদের বাসায় পরদিন খাবার দিয়ে যেতে চাইলেন।রাতের দিকে বাকি সবাই ওয়ালমার্টে কেনাকাটা শেষে ব্যাক করলো।আমি আর রাত্রে উঠলাম না। পুরো মরার মতোন ঘুমিয়ে রইলাম! 

পর্ব ৩ : Downtown Alaska

 ১৪ সেপ্টেম্বর,২০২৫ (আলাস্কা টাইম)

সকালবেলা রিফতির মামার একাউন্ট নাম্বার থেকে আমাদের ৬ জনের জন্য উবার কল করে দিলো। সবাই কনফারেন্স সেন্টারে পৌছালাম। কনফারেন্স ভেন্যু মোটামুটি বেশ আড়ম্বরপূর্ণ। তবে মানুষের উপস্থিতি বিচ্ছিন্ন। অর্গানাইজার লুকাস আর জ্যাক্যুলিন এর সাথে দেখা হলো।আমাদের কে নির্ধারিত রুমে নিয়ে গেলো। ৩০ মিনিট লেট করে প্রেজেন্টেশন শুরু হলো।

আমার জন্য এটা লাইফেরই এত বড় পরিসরে প্রেজেন্টেশন দেওয়া। আবার পুরোটা ইংরেজি তে। তবে ছোটখাটো ফল্ট বাদে স্যাটিসফাইড ই ছিলাম নিজের প্রথম পাব্লিক প্রেজেন্টেশন নিয়ে।আরেক ফাইনালিস্ট ইন্ডিয়ার টীমের আরসিত আর গুহান এর সাথে দেখা হলো।ওরা বেশ আন্তরিক।ওদের সাথে আমাদের কয়েক দফা সৌহার্দ্য বিনময় শেষে অনেক ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল। সবার ফাইনাল প্রেজেন্টেশন শেষে বের হয়ে এলাম ভেন্যু থেকে। মাঝে আবার আমি ভেন্ডিং মেশিনে ডলার ঢুকিয়ে আর চেঞ্জ বের করতে পারছিলাম না। পরে দায়িত্বরত পুলিশ অফিসিয়ালের হেল্প নিয়ে বের করলাম মহা মূল্যবান এক ডলার!



অফিসিয়াল স্যুট আপ


ডাউনটাউন 


ডাউনটাউন ২



যাই হোক,কনফারেন্স শেষে সমুদ্রের দিকে এগোলাম একটু।ওখানে ElderBerry পার্ক আছে একটা। সূর্যাস্তের টাইম এগিয়ে আসছে।বাচ্চাকাচ্চারা খেলাধুলা করছে ওখানে। পাশে বাবা মা বসে আসছে। আমেরিকান বাচ্চাগুলা এত কিউট বলে বোঝানো যাবে না, Baby's Day Out এর বাচ্চা যেন সবগুলো। আমরা নিচের দিকে একটা টানেল ধরে পাড়ের দিকে গেলাম। ওটার পাশ দিয়ে রেল লাইন চলে গেছে। কিন্তু আমরা দু:খজনকভাবে একটা ট্রেন ও দেখতে পেলাম না আলাস্কায়। 

                            পার্কের বাচ্চা গুলো পিছে আছে !

                                 সাইকেল লেনের টানেল



পাড়ের দিকে কর্দমাক্ত জায়গা। কোনো সী বিচ টাইপ না। আর এটা সম্ভবত ডিরেক্ট প্যাসিফিক ও না। একটা কানেক্টিং ব্রাঞ্চ এংকোরেজের দিকে এসেছে। ওখানে কিছু ভাঙা ডাল আর পাথর পড়ে আছে। একটা ক্রস সাইন দেওয়া পাথরের উপরে, যেটা Devil's sign.আসিফ ওটার উপরে পা দেওয়ার পরেই ভয় পেতে লাগলো ওর সাথে অশরীরী কিছু ঘটবে কি না! কিছুক্ষণ ওখানে কাটানোর পরে আমরা আবার কনফারেন্স ডাইনিং এ ব্যাক করলাম।


                                      

                                      

                    এই জায়গা টা ভেন্যুর পাশের সাগরের পাড়       



ক্রিঞ্জ বাট ওকে :3


Dena'ina তে আমাদের ডাইনিং হলো। তখন রাত ১০ টা প্রায় বাজে। উল্লেখ্য আলাস্কা তে সন্ধ্যা নামে রাত ৯.৩০ টার দিকে। উত্তর মেরুর দিকে ক্রমশ গেলে এমন তফাৎ দেখা যায়দিন রাত্রের ব্যবধানে।এটা আমাদের জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা!ডাইনিং টাইমে ব্যুফের ব্যবস্থা ছিল।যদিও বেছে বেছে হালাল খাবার নিতে গিয়ে ম্যাক্সিমাম আইটেম ই টাচ করা গেলো না।বলরুমে মিউজিশিয়ান রা মিউজিক বাজাচ্ছে খাবারের সাথে সাথে। এই কান ভোতা করা সানাই এর শব্দে বাকি বিদেশিরা শান্তি পেলেও আমাদের কান একদম পচে যাওয়ার উপক্রম! 

                                                       

                                         

                                   নফারেন্স ডাইন           

ডাইনিং শেষে আমরা ব্যাক করলাম আমাদের এপার্টমেন্টে। সকালবেলা যেই উবার ড্রাইভার কে সাথে নিয়ে এসেছিলাম তার হোয়াটস অ্যাপ নাম্বার রেখে দিয়েছিলাম।উনাকে কল করার পরে উনি নিয়ে গেলেন বাসায়। রাত্রে হুট করে অসম্ভব ঠান্ডা বাতাস ফ্লো হচ্ছে। এই ঠান্ডার মাঝে কাঁপতে কাঁপতে আমরা বাসায় এসেই ঘুম দিলাম। সম্ভবত জেট ল্যাগ ইম্প্যাক্ট আস্তে আস্তে কাটা শুরু করেছে! 

পর্ব ২: Hola Alaska

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

এংকোরেজে পৌঁছে নতুন বাসায় ঢুকে সাথে সাথেই নিত্য নতুন সরঞ্জামের সাথে পরিচিত হলাম। অনেক কাজকারবার করে ডিহিউমিডিফায়ার আর হিটার অন করলাম। ইইই এর ৩ টা এক রুমে আর আমরা সিএসই এর ৩ টা অন্য রুমে আসলাম।যে এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছিলাম,সেটায় ছিল ২ বেড,এক ডাইনিং ড্রয়িং আর কিচেন। ওয়াশরুম ছিল মোটে একটা।



ভোর ৫.৪৫ এ এভাবেই বের হয়ে গিয়েছিলাম




লোকালয়ের খোঁজ - নিখোঁজ



দুষ্ট ছেলের দল





মার্কিন মুলুকে শুরুতেই প্রধানতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় এই ওয়াশরুম। কোনো পুশ নেই বা ফ্লোর দিয়ে পানি পাস হওয়ার জায়গা নেই।বাঙালি সবার জন্য এটা পুরোপুরিই অনভিপ্রেত।আমরা অনেক চিন্তা ভাবনা করে ভেজা টিশ্যু বা বোতল দিয়ে 'কার্য সম্পাদন' করার পদ্ধতি বের করলাম! 

আমি হালকা ফ্রেশ হয়ে আসলাম ওয়াশরুম থেকে।ওয়াশ রুমের বাকি জিনিস বেশ চমকপ্রদ। দুই দিকে দুইটা টিউনার দিয়ে গরম পানি ঠান্ডা পানি ফ্লো কন্ট্রোল করা যায় ইচ্ছামতোন। আর বাথটাবেও হট কোল্ড ওয়াটারের সিস্টেম।কিন্তু সর্বোপরি বাঙালিদের জন্য একটা প্রথম চ্যালেঞ্জের নাম এই ওয়াশরুম!  ফ্রেশ হয়ে ঘুমোতে গেলাম লাইট অফ করে। 

এত বড় ফ্লাইট শেষে জেট ল্যাগ জেঁকে বসলো। কোনোভাবেই ঘুমোতে পারছি না। বাংলাদেশে এখন যে সন্ধ্যা! আর পাশে থেকে বাকি ৪ জন জোরে গল্প করছে। শেষমেষ আসিফের কথায় সিদ্ধান্ত নিলো সবাই ভোর ৬ টায় দিনের আলো ফোটার আগেই ওরা ম্যাকডোনাল্ডে খেতে যাবে। আর ওয়ালমার্ট থেকে বাজার করে নিয়ে আসবে।এই কনকনে ঠান্ডার মধ্যে উইন্ডব্রেকার জড়িয়ে আমরা ৬ জন বেরিয়ে পড়লাম Mission Hunger এ!

এংকোরেজে আমাদের বাসার আশেপাশে মানুষের চিহ্নমাত্র নেই। আমরা বেশ রিস্ক নিয়ে এই ভোরে বের হলাম। প্রায় ৫ কিলো হাটাহাটির পর ম্যাকডোনাল্ড চোখে পড়লো।  কিন্তু সেটা বন্ধ। গুগল ম্যাপসে যেটা লিখেছিলো ওটা Drive Through এর টাইম লেখা ছিল। এখানে সকালে গাড়ি গুলো অর্ডার নেয় এই ভোরে আর শুধু ওদেরকেই অর্ডার টেক আউট দেয়।ডাইনিং এ ইন পার্সোন খাওয়া দাওয়া ৮ টার আগে করে না। আমরা এতটাই ক্ষুধার্ত ছিলাম যে ড্রাইভ থ্রু এর সামনে গিয়ে অর্ডারের প্লেসে বলতে লাগলাম কোনো ইমার্জেন্সি স্পেশাল ওয়ে তে আমাদের খাবার দেওয়া যায় কি না! কথার কোনো রেস্পন্সই করলো না।


হতাশ হয়ে আবারও হাঁটতে লাগলাম সামনের দিকে। আরেকটি হোটেলের এক লোকের সাথে দেখা হলো। ভদ্রলোক বেশ অনেক ক্ষণ তার নিজের জীবনের প্রলাপ পারলেন। আমাদেরকে একটি ছাতা উপহার দিলেন কারণ কারোর হাতে আমাদের ছাতা ছিলো না,আবার অনেকের জ্যাকেট ওয়াটারপ্রুফ ও ছিল না। আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলাম। উনি সামনে LeRoy's রেস্টুরেন্টে ব্রেকফাস্ট করতে বললেন। হাটতে হাটতে ২-৩ কিলো পেরিয়ে রেস্টুরেন্টের দেখা পেলাম।

                                               


                                                

                             য়াল মার্ট থেকে ফেরার পথে ! 

এ মুহূর্তে হতাশার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গেলাম। এই রেস্টুরেন্টও বন্ধ! আমি অনেক হতাশ হয়ে আসিফ আশিকের উপরে রাগ ঝাড়ছিলাম কেন এত সকালে ওরা নিয়ে এসেছে। হতাশার মুহূর্ত কাটতে না কাটতেই হোটেলের মালকিন গাড়ি এসে পড়লো। উনি দেখলো সবাই বসে আছি বাইরে মাটির মধ্যে। আমাদের এই করুণ দশা দেখে উনি শুরুতেই সরি বলতে বলতে আমাদের রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকিয়ে পানি দিলেন আর খাবার অর্ডার করতে বললেন।

পশ্চিমের দেশে আরেকটা মেজর প্রব্লেম হলো খাওয়া দাওয়া। হালাল রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এখানে রেস্টুরেন্টে কোনো নন ভেজ আইটেম খেতেই পারলাম না। শেষমেষ প্যানকেক আর ডিম অমলেট দিয়ে সকালের নাস্তা সারলাম। আর ওদিকে আসিফ বেচারা এক্সাইটেড হয়ে সাথে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও অর্ডার করেছিল। এত কিছু খেতে না পেরে শেষে শেয়ার করে হেল্প করলাম ওকে শেষ করতে! রেস্টুরেন্টের ভদ্রমহিলা অস্বাভাবিক চালু। পেমেন্ট করতে গেলাম।লিট্রেলি ২-৩ সেকেন্ড এর মাঝে পেমেন্ট রিসিভ করলো। এমন সিদ্ধহস্তে ফাস্ট কাজ করতে আমি লাইফেই কাউকে দেখি নি।এটা শুধু আমি না,আমার বাকি মেট রাও বললো ওখানে খাওয়া দাওয়া শেষে। এমন স্কিল এর সত্যি সত্যিই প্রশংসা করতে হয় অনেক! 

                                         

                                  এংকোরেজের ঠিকানা             

                                        





সকালের নাস্তা শেষে ওয়ালমার্টের দিকে রওনা হলাম। আমাদের মেজর প্রব্লেম হলো ট্রাভেল এডাপ্টার না আনা। আমি আগেরবার নেপাল গিয়েছিলাম, ওখানে এমন পোর্ট ইস্যু ছিল না। কিন্তু পশ্চিমের দেশে সব পোর্ট হলো ভিন্ন ধাচের।ল্যাপ্টপ বা ফোন কোনোটাই চার্জে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এরকম অবস্থা থাকলে কালকের প্রেজেন্টেশন বা ফোনে কল মেসেজ দেওয়া সব কিছুই অসম্ভব হয়ে পড়বে!

                                   রন্ধনশিল্পের হাতেখড়ি

ওয়ালমার্টে গিয়ে আমরা ট্রাভেল এডাপ্টার কিনে আমরা ৩ জন (আমি, রিফতি, শাহরিয়ার) বাসায় চলে আসলাম দ্রুত হেটে হেটে। পথিমধ্যে টার্ন এরাউন্ড সাইনের মাঝে কিছু র‍্যান্ডম ক্লিক করলাম। বাকি ইইই এর তিনজন ডিম, কলা,রুটি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার দাবার কিনে বাসায় ফিরলো দেরি করে। আমরা তিনজন বাসায় গিয়ে স্লাইডের কাজ ১ ঘন্টা করতে না করতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।জেট ল্যাগ এর ধকল সামলাতে ভালোই প্রব্লেম হচ্ছিল।পরে ইইই এর তিনজন আবার বাসা থেকে লাবিবা নাহিয়ান দের হোটেলে গেল আবার ৬ কিলো হেটে।ওদের জন্য ওভারল আজকের দিন টা অনেক স্ট্রেস ফুল হয়ে যাচ্ছিল!  বঙ্গদেশের রিকশা সমাচার বাইরের দেশে যে কী রকমের অভাব বোধ করায় তা বলার বাইরে।

আমরা আমাদের মতোন আর ওরা ওদের মতোন আগামীকালকের প্রেজেন্টেশন রেডি করছিলাম।রাত্রিবেলা আমি জীবনে প্রথমবারের মতোন কিচেনের সামনে গেলাম। দেখলাম রিফতি ডিম পোচ করছে। আমিও হাত ঘুরালাম কিছুক্ষণ। শেষে ডিম পোচ,ব্রেড আর কলা খেয়ে কয়েক দফা প্রেজেন্টেশন প্র‍্যাক্টিস করে ঘুমিয়ে পড়লাম পরের দিন কনফারেন্সের জন্য।

পর্ব ৬: গন্তব্য বাংলাদেশ

আলাস্কা থেকে ৪.৫ ঘন্টার ফ্লাইট শেষে আবারও লস এঞ্জেলেস এ ট্রাঞ্জিট। ট্রানজিট এবার ৫ ঘন্টা। হলিউডে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো।কিন্তু বাকি সবাই রাজি না ...